পরিচালক হাইফা আল মনসুর-এর হাত ধরে সৌদি আরবে শুট হওয়া প্রথম ফিচার ফিল্ম
মৌসুমী বিলকিস
এবারের (2014) কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ ফিল্মগুলির অন্যতম ‘ওয়াজডা’। বাহারি
মোজা আর জুতো পরা এক বাচ্চা মেয়ের পায়ের শট দিয়ে শুরু হয় ফিল্ম। ফ্রেমের আশেপাশে
দেখা যায় অন্যরকম, সাধারণ জুতো-মোজা পরা পা। কিন্তু পিছনের একটি পা-ও দেখি হাইনেক
জুতো পরে যে পা আসলে ওয়াজডা’র, যে কিশোরী ফিল্মের প্রোটাগনিস্ট। পাগুলো স্থির নয়।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যা খুব স্বাভাবিক। পায়ের অস্থিরতার সঙ্গে সঙ্গে চলে প্রার্থনা,
‘নিজেকে আল্লার কাছে সঁপে দিয়েছি। আমার বিশ্বাস তার দরবারে আমার জন্য একটি জায়গা
আছে...’ ইত্যাদি। স্কুলের শিক্ষিকার তত্বাবধানে চলে ধর্ম শিক্ষা। সেখানে যাবতীয়
শিশু সুলভ আচরণ নিষিদ্ধ।
পরের দৃশ্যেই দেখা যায় মেয়েদের কী কী করা উচিত এবং উচিত নয় সে বিষয়ে সতর্ক করে
দেন প্রিন্সিপ্যাল। উচু স্বরে হাসতে বা
কথা বলতে নিষেধ করেন তিনি যাতে পুরুষদের কান অব্দি মেয়েদের আওয়াজ না পৌঁছায়। ওয়াজডা’র
হাইনেক জুতোও হয় নিষিদ্ধ। সারা ফিল্ম জুড়ে মেয়েদের জীবনের নানান নিষিদ্ধ বিষয়গুলি
উঠে আসে যা টপকে তারা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না নিজস্ব স্বপ্নগুলোকে। কিন্তু কৈশোর
আর তারুন্য কেনই বা নিষেধের ঘেরাটোপে আটকে থাকতে চাইবে। তাই ওয়াজডা’র কিশোরীসুলভ
চঞ্চলতা দেখান পরিচালক হাইফা আল মনসুর যা আসলে ঠিক ‘কিশোরীসুলভ’ও নয়, বালকের
বাঁধনছাড়া আচরণও মিশে থাকে তাতে। কিশোর আবদুল্লা’র সঙ্গে তার যেমন মান অভিমানের
সম্পর্ক চলে তেমনি নিজের ইচ্ছে পূরণ করতে তথাকথিত সৌদি আরবীয় ‘অসততা’র পথ অবলম্বন
করতেও সে ছাড়ে না। ফিল্মের বারো মিনিটের মধ্যে খুনসুটি করতে গিয়ে যখন কিশোরটি তার
ওড়না কেড়ে নিয়ে এবং সেটা ফেরত দিয়ে সাইকেল চালিয়ে তার বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলের পথে
পাড়ি দেয় তখন ওয়াজডা’র মনে হয় তার একটা সাইকেল থাকলে সেও দেখিয়ে দিত। আর ঠিক
তক্ষুনি সে দেখে ফেলে বড় পাঁচিলের ওপাশে একটা নতুন সাইকেল যেন চালকহীন সাঁ সাঁ করে
এগিয়ে চলেছে, বাস্তব ছাড়িয়ে এক সাররিয়াল অনুভুতি দেয় যে শটটি। চালকের জন্য যেন
অপেক্ষা করছে সাইকেলটি এবং ওয়াজডা ছাড়া সে চালক অন্য কেউ হতেই পারে না।
ঠিক তখন থেকেই তার মনে সাইকেলটি কেনার বাসনা জাগে এবং সারা ফিল্ম জুড়ে নানান
উপায়ে সেই বাসনা সে পূরণ করতে চায়। দোকানের মালিকের সঙ্গে একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক
সে গড়ে নেয় এবং মালিকও আটশ রিয়াল মূল্যের মূল্যবান সাইকেলটি শেষ পর্যন্ত ওয়াজডা’র
জন্য সংরক্ষণ করে রাখে। সে টাকা জমাতে থাকে একটু একটু করে। কখনো প্রেমপত্র পৌঁছে
দেওয়ার বিনিময়ে দুপক্ষ থেকেই মূল্য নেয়, কখনো স্কুলের মধ্যে নিজের তৈরি করা উলের
হ্যাণ্ডব্যাণ্ড গোপনে সহপাঠীদের কাছে বিক্রি করে। কিন্তু এত টাকা জমানো তার পক্ষে অসম্ভব।
উপরন্তু জোটে প্রিন্সিপ্যাল ও মায়ের ভর্ৎসনা। একদিন ঘোষণা হয় কোরানের শ্লোক নিয়ে
আবৃত্তি প্রতিযোগিতা হবে এবং প্রথম স্থানাধিকারি পাবে এক হাজার রিয়াল। যে ওয়াজডা ভালো
করে কোরান পড়তে পারে না বলে শাস্তি পেয়ে কড়া রোদের মধ্যে ঘাম নিয়ে স্কুলের বাইরে
দাঁড়িয়ে থাকে সে-ই যোগ দেয় প্রতিযোগিতায় এবং নানান টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে প্রথম
স্থান অধিকার করে। ঠিক যখন নতুন সাইকেলটি কিনে ফেলার টাকা তার হাতের মুঠোয় তখনই
প্রিন্সিপ্যালের প্রশ্নের উত্তরে সে জানায় এই টাকা দিয়ে সে সাইকেল কিনবে। তৎক্ষণাৎ
প্রিন্সিপ্যাল তার ‘ভালো মেয়ে’ হয়ে ওঠার চালাকি ধরে ফেলে পুরস্কার মূল্য প্যালেস্তাইনে
পাঠানো হবে ঘোষণা করেন।
আশাহত কিশোরী ব্যাজার মুখ নিয়ে বাড়ি ফেরে। ছেলেমেয়েদের মেশামিশি, বোরখা ও
হিজাব না পরে পরপুরুষের সামনে আসা বা পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলা, প্রেম করা, গান
শোনা সৌদি আরবে অধর্মীয়, অসামাজিক। কিন্তু ওয়াজডা ও আবদুল্লা খুব প্রাকৃতিক নিয়মেই
পরস্পরের সান্নিধ্যে আসে, গড়ে তোলে এক স্বাভাবিক বন্ধুত্ব। এই স্বাভাবিকত্বের গলা
টিপে দেওয়া হবে। স্কুলের, বাড়ির, প্রতিবেশিদের আর ধর্মগুরুদের অনবরত নিষেধের কাছে
নিজের ইচ্ছেগুলো অবদমিত হতে হতে মৃত্যু হবে অসংখ্য দুঃসাহসী স্বপ্নের।
কিন্তু সৌদি আরবের প্রথম মহিলা পরিচালকের হাত ধরে অনেক অনেক প্রতিকুলতা টপকে ওয়াজডা’র
স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়। যে স্বপ্ন বাস্তবে পরিচালকের নিজের তুতো বোন পূরণ
করতে পারে না কোনদিন (সূত্রঃ পরিচালকের সাক্ষাৎকার, সিএনএন)। সম্পূর্ণ প্রতিকুল
আবহাওয়ায় দাঁড়িয়ে এই ইতিবাচক সমাপ্তি পরিচালকের অবস্থান যেমন স্পষ্ট করে দেয় তেমনি
সিনেমা শিল্পের হাত ধরে একটা অতীব রক্ষণশীল দেশের সাধারণ মানুষজনের সুপ্ত
ইচ্ছেগুলোও উস্কে ওঠে। যে দেশে পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে মহিলাদের কাজ
করা নিষেধ সেখানে পরিচালক আস্ত একটা ফিল্ম তৈরি করে ফেলেন। হ্যাঁ, এটিই সৌদি আরবের
মাটিতে সম্পূর্ণ দেশীয় অভিনেতাদের নিয়ে শ্যুট হওয়া প্রথম ফিচার ফিল্ম। কিন্তু
দুর্ভাগ্য যে তাঁকে বহিঃদৃশ্যগুলি পরিচালনা করতে হয় ভ্যানের ঘেরাটোপে বসে, মনিটর
দেখে দেখে। এই আড়ালটুকু অবলম্বন না করলে হয়তো শুটিংই বন্ধ হয়ে যেত। যে দেশে সিনেমা
ইতিহাসের আদিপর্ব শুরু হয় ২০০৬-এ। যে দেশে একটি মাত্র সিনেমা হল; শুধুই তথ্যচিত্র দেখানো হয়। যে দেশে হজ যাত্রীরা
ধর্মীয় স্থাপত্যগুলোকে ফ্রেমে রেখে সেলফি তুললে বয়ে যায় সমালোচনার ঝড়। যে দেশে
রেহানা জব্বারি’র মতো এক তরতাজা যুবতীর ফাঁসি হয়ে যায় আর তার গভীর ক্ষতচিহ্নগুলি
থেকে যায় ধর্তব্যের বাইরে। হিজাব আর বোরখা ছাড়া মেয়েদের চলাফেরা যে দেশে নিষিদ্ধ।
উপরন্তু সদ্য সদ্য কার্যকর হয় ‘সুন্দর ও আকর্ষণীয়’ চোখের মেয়েদের চোখ ঢেকে চলার
বিধিনিষেধ। লিখিত আইন না থাকলেও যেখানে মেয়েদের গাড়ি চালানোর ওপর জারি হয় ফতোয়া।
সে দেশে এক মহিলা পরিচালক পিতৃতান্ত্রিকতা, রক্ষণশীলতা আর ধর্মীয় মৌলবাদের বিপরীতে
দাঁড়িয়ে যখন এক আরব কিশোরীর ইচ্ছে পূরণের গল্প বলেন তখন তা গুরুত্বপূর্ণ বৈকি। আর
শুধুই কি তা আরব কিশোরীর গল্প? অনেক গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ দেশের কিশোরীরাও
শুদ্ধতাবাদী রক্ষনশীলতার চাপে হারিয়ে ফেলে না কি গভীর গোপন অনতিক্রম্য স্বপ্নগুলো?
সে অর্থে ফিল্মটি আমাদের কিশোরী বেলারও গল্প বলে।
পরিচালক ফিল্মটিতে মেয়েদের অন্দরমহলে ঢুকে পড়েছেন। তুলে এনেছেন মেয়েদের
স্কুলের প্রাত্যহিকতা। পুরুষরা এসেছে শুধু প্রয়োজনে, মেয়েদের মূল গল্পটিকে এগিয়ে
নিয়ে যাওয়ার অবলম্বন হিসেবে। বেশিরভাগ পুরুষ চরিত্রকে দূর থেকে দেখা বা অল্প
ক্ষণের জন্যই তাদের উপস্থিতি। সঙ্গে মেদহীন সুচারু সংলাপ, সুন্দর কম্পোজিশন ও
লেন্সের ব্যবহার, প্রয়োজনে ক্যামেরা মুভমেন্ট আর অবশ্যই নতুন ও পেশাদার অভিনেতাদের
সমানতালে অভিনয়। সুন্দরী স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল হুসা একদিকে মেয়েদের জীবন ‘শুদ্ধ’
করতে সচেষ্ট। অন্যদিকে তাঁর নিজের জীবনে শুদ্ধতার ঘেরাটোপে জমে আছে দুঃসহ অন্ধকার।
এক ছাত্রী লুকিয়ে তার প্রেমিককে চিঠি পাঠায় আর তাতে সাহায্য করে ওয়াজডা। দুই
ছাত্রীর ‘পাপ’ ঘোষণা করা হয় বাকি ছাত্রীদের সামনে। যার একজনকে আর একজনের স্কার্টের
মধ্যে হাত ঢোকাতে দেখেছিলেন প্রিন্সিপ্যাল যা ছিল অতি নিরীহ স্পর্শ। স্কুলে ফুল
নিয়ে আসা, প্রেমপত্রের আদান প্রদান ও পরস্পরকে স্পর্শ করা নিষিদ্ধ করে দেন তিনি। কিন্তু
কানাঘুষোয় শোনা যায় তাঁর নিজের ঘরে লুকিয়ে ঢুকে পড়ে এক পুরুষ, তাঁর প্রেমিক।
ঘটনাটি যখন প্রকাশ হয়ে পড়ে তখন বাধ্য হয়ে ঘরে চোর ঢুকেছিল বলতে হয় তাঁকে।
নেলপালিশ পরা, পায়ের মধ্যে ট্যাটু আঁকা, হিজাব ছাড়া বাইরে বেরোনো ইত্যাদির ওপর
তিনি কঠোর। কিন্তু নিজে পরেন পশ্চিমী পোশাক। বেশ কয়েক বার দেখা যায় একাধিক বোতাম
খোলা শার্টসহ তাঁর অনাবৃত গলা-সংলগ্ন অঞ্চল আর হিল পরে খটখট শব্দ তুলে হেঁটে যান
তিনি স্কুলের অন্দরে। কখনো সানগ্লাস মাথার ওপর তুলে চুলগুলোকে সুন্দর ভঙ্গিমা দেন।
পুরুষহীন এই স্কুলের অন্দর তাঁর মুক্তাঞ্চল, ক্ষমতা ফলানোর জায়গা। বাইরে বেরোলেই
তো সেই হিজাব আর বোরখার আড়ালে চলে যেতে হবে। অন্যান্য শিক্ষিকাদেরও দেখি পশ্চিমি
পোশাকে। ওয়াজদা’র মাকেও দেখি নিজেকে পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখতে। কিন্তু বাইরে
বেরোলেই সেই একই অবগুণ্ঠন।
পরিচালক এই বৈপরীত্যেটি গভীর মমতায় উপস্থাপন করেছেন। পিতৃতান্ত্রিকতা, ধর্মীয়
অনুশাসন আর রাজনৈতিক ক্ষমতার স্তরগুলি ফিরে ফিরে এসেছে ফিল্মটিতে। ওয়াজডা’র মা তার
বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ সম্ভাবনার ভয়ে থাকেন। কারণ পুত্র সন্তানের জন্ম দিতে
পারেননি তিনি। ফলত তার মাকে শুনতে হয় বাবার কটুকাটব্য। ওয়াজডা মেয়ে বলে তার স্থান
হয় না বাবার বংশ লতিকায়। সে তাই সাদা কাগজে নিজের নাম লিখে সেঁটে রাখে বাবার বংশ-বৃক্ষের
ছবিতে। কিন্তু কাগজটি দুমড়ে মুচড়ে তার মতোই অবহেলায় পড়ে থাকে টেবিলের ওপর।
ড্রাইভারও পুরুষত্ব ফলাতে কসুর করে না তার মায়ের ওপর। ড্রাইভারের ওদ্ধত্য সহ্য
করতে না পেরে তার মা যখন গাড়িতে ওঠা বন্ধ করেন তখন বিষয়টি সামলাতে চলে আসে কিশোর
আবদুল্লা। মোটা গোঁফওয়ালা তার কাকুর রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে সে ড্রাইভারকে
হুমকি দেয়। ড্রাইভার পরদিন থেকে ওয়াজডা’র মাকে গাড়িতে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই
কিশোরও বুঝে নিয়েছে রাজনৈতিক দাদাগিরির সাফল্য।
ওয়াজডা মায়ের নিষেধ সত্বেও আবদুল্লাকে বাড়ির ছাদে লাইট টাঙাতে অনুমতি দেয় একটি
শর্তে; তাকে সাইকেল চালাতে দিতে হবে। আবদুল্লা সানন্দে রাজি হয় এবং ওয়াজডা’র বাড়ির
পাশের মঞ্চে কাকার রাজনৈতিক ভাষণ উপলক্ষে লাইটগুলো সাজিয়ে ফেলে। আবদুল্লা’র
সাইকেলটি নিয়ে চলে ছাদের মধ্যে ওয়াজডার প্র্যাকটিস। কিন্তু আচমকাই সিগারেটে টান
দিতে দিতে তার মা একদিন ছাদে চলে আসেন আর অপ্রস্তুত ওয়াজডা সাইকেল সুদ্ধ পড়ে গিয়ে
পায়ের মধ্যে রক্তপাত ঘটায়। ফাঁকা বাড়িতে আবদুল্লাকে ছাদে নিয়ে আসার জন্য বকা খায় ওয়াজডা।
কিশোরটি পালিয়ে যায়। ভ্যাবাচ্যাকা ওয়াজডা সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে যখন জানায় সে
রক্তাক্ত তার মা আর্তনাদ করে ওঠেন। ভাবেন বুঝি তার মেয়ের কিশোরীত্ব খোয়া গেছে। হাঁটু
থেকে রক্ত বেরোচ্ছে জেনে আশ্বস্ত হন। বোঝা যায় মেয়ের জীবন কোনভাবেই যাতে নিরাশার
অন্ধকারে ঢেকে না যায় সেদিকে সতর্ক মা। আর এক কিশোরও সন্দেহের বাইরে নয়।
মায়ের বান্ধবী লাইলা যে হসপিটালে চাকরি করে সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য সে বলে ওয়াজডা’র মাকে। কিন্তু পরপুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে ওয়াজডা’র বাবা অনুমতি দেবেন না বলে তিনি রাজী হন না। এখানে মানসিকভাবে পিছিয়ে এক মহিলাকে দেখান পরিচালক যিনি বোরখা ও হিজাব ছাড়া লাইলাকে তার কাজের জায়গায় ‘পরপুরুষের’ সঙ্গে কথা বলতে দেখে অস্বস্তি নিয়ে ফিরে যান।
দামি এক লাল পোশাক কেনার কথা ভাবেন তিনি যে পোশাক পরে ওয়াজডা’র বাবার কাছে
নিজেকে করে তুলতে চান মোহনীয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। ওয়াজডা’র বাবা তাদের ত্যাগ
করে যান যখন একদিন তার মা ‘অস্বাভাবিক’ দেরি করে বাড়ি ফেরে। তখন সেই লাল পোশাকটি
তাঁর কাছে অর্থহীন হয়ে যায়। পোশাকটির জন্য জমিয়ে রাখা টাকা দিয়ে তিনি ওয়াজডা’র
পছন্দের সাইকেলটি কিনে আনেন।
মেয়েকে বুকে জড়িয়ে যখন ছাদে দাঁড়িয়ে থাকেন মা তখন হঠাৎই পিছনের অন্ধকার ভেদ করে হাউইবাজির আলো দৃশ্যটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। এতদিন মেয়েদের সাইকেল চালানোর বিপক্ষে কথা বললেও এই পুরুষহীন জীবন বিষণ্ণতার মধ্যেও তাকে এক ধরণের স্বাধীনতা দেয়। ওয়াজডা সাইকেল চালিয়ে বালকদের ফুটবল খেলার জায়গাটিতে আসে। আর তখনই হয়ে যায় একটি গোল। এই সমাপতন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বালকরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে ওয়াজডা ও সাইকেলটির দিকে। সাইকেলের চাকা আবদুল্লাকে ছাড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে চলে।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------
প্রকাশিত: রবিবারোয়ারি, এই সময়, ১৪ নভেম্বর, ২০১৪
Image courtesy: internet






No comments:
Post a Comment