Total Pageviews

Saturday, 25 August 2012


তোদের জন্য একটা আকাশ
মৌসুমী বিলকিস



চোখ মট্‌কিয়ে দূরে চলে যায় লাটাই চ্যুত ঘুড়ি
ঘর নেই কোন গাছতলা নেই জীবিকাও আহামরি
জীবনে আর স্বপ্নেও আসে কী মহান জোচ্চুরি
তবু, তোদের জন্য একটা আকাশ তৈরি করতে পারি
শোনো, সবার জন্য কবিতা লেখাটা ভীষণ দরকারি

সুখতলা খুঁয়ে হাঁপিয়ে উঠেছে যুবতী জেরবার
বাবার অসুখ মা চলে গেছে মায়ের অলংকার 
পাগলা হাওয়ায় রাতগুলি যায় দিন পাতা ঝরার
কবীর সুমন ভালোবেসেছেন আমাকেও একবার

তাই, তোদের জন্য একটা আকাশ তৈরি করতে পারি
শোনো, সবার জন্য কবিতায় কথা ভীষণ দরকারি







Friday, 24 August 2012


ঘুম 
মৌসুমী বিলকিস

                          
                          দেহের ভিতর শূণ্যতা ধর্ষকাম
                          চুমুর ক্ষত মুগ্ধতা, গিল্‌টি ফিল্‌ অন্য নাম

                          কী নাম তোর? যৌনতা? গাল ফোলায় শঙ্খচিল
                          শঙ্খচিল উড়বি তো? ম্যাপেল গাছ বসন্ত মুগ্ধ নীল
                          রাজকুমার ঘুম ভাঙার কাঠি জিওন    
                          ঘুমের মধ্যে চারিয়ে যান সানি লিওন



Thursday, 23 August 2012


দুটি কবিতা

মৌসুমী বিলকিস



আগুন

সাদা পাতা সাদা তো ঠিক নোস
পাতার মধ্যে ছড়িয়ে রেখেছিস
জীবন আমার চার পয়সার জোস
তীব্র মরণ হৃদয় ঘাতী বিষ
সাদা পাতা আগুন জ্বেলেছিস


ঘাস

আধেক আকাশ পায়ের নীচে ঘাস
তবুও কালো অন্ধ নার্সিসাস্‌
হৃদয় জুড়ে বৃষ্টি বারো মাস
এখনো তুই নদীর কাছে যাস ?
এখনো শেষ হয়নি পরবাস
শরীর আমার জড়িয়ে আছে ঘাস


Wednesday, 22 August 2012


শাফিলিয়া আহমেদ
মৌসুমী বিলকিস

কেন্ট নদী সব জানে
বয়ঃসন্ধি আগুন কথারা দুঃসহ পরিণামে
টুইটারও কিছু জানে
সতেরো বছর কাটিয়েছে মেয়ে প্রহার অপমানে
দিনরাতগুলো জানে
স্বাধীনতা চেয়ে সাহসী মেয়েটি দুস্তর অভিযানে
খয়েরি বাড়িটা গুমরে মরছে ওয়ারিংটন জানে
কিশোরী মেয়ের রক্ত দুহাতে খবরে বিষাদ গানে
কাঁদিস না তুই মেয়ে
একটুও ভুল করিস নি তুই স্বাধীন উপাখ্যানে
ভাবিস না তুই মেয়ে
আল্লাহ্‌ ঠিক ক্ষমা চায়বেন নিহত হতে চেয়ে

তোর চোখ দিয়ে কুরোশাওয়া তাঁর স্বপ্ন দেখেছেন
তোর হাসি দেখে লিওনার্দো মোনালিসা এঁকেছেন
তোর মুখ ধরে শক্তি চট্টো একটি চুমুও খাবেন
তোর প্রতিবাদে এক্স-জেন আর চে গেভারাও যাবেন

কেন্ট নদীটিও স্যালুট করেছে অদম্য তোর জেদ
সবার গভীরে জেগে থাকবেই শাফিলিয়া আহমেদ




[শাফিলিয়া আহমেদ। সতেরোর কিশোরী। নিজের মতো করে, নিজের পায়ে বাঁচতে চেয়েছিল । ওয়ারিংটনে বড় হওয়া মেয়েটি এরকম-ই তো হবে, স্বাধীন এবং সাবলীল। এ তো পাকিস্তান বা ভারত বা আফগানিস্থান নয় যে নিজের গভীরে রক্তাক্ত হতে হতে সারা জীবন কাটিয়ে দেবে এক মেয়ে। কিন্তু খুব ভালোবেসে তার পাশে দাঁড়ানো যাদের উচিত ছিল, তারাই, শাফিলিয়ার মা-বাবা, ‘সংস্কৃতির সম্মান’ রক্ষায় অন্য ছেলে মেয়েদের সামনে তাকে খুন করে ভাসিয়ে দিল রিভার কেন্ট-এর জলে। সেপ্টেম্বর, ২০০৩। এতদিনে, ২০১২ তে, বোন আলিশার সাক্ষ্যে মা-বাবার যাবজ্জীবন। স্থানঃ ইংল্যাণ্ড। আপনারা সবাই এসব কথা জানেন। শাফিলিয়া আর কোনদিন ফিরে আসবে না। টুইটারে লেখা তার দুটো বিষাদের কবিতা হয়তো থেকে যাবে। থেকে যাবে তার মরিয়া হয়ে বেঁচে থাকতে চাওয়ার ‘গল্প’। কিন্তু এই Honour Killing আর কতদিন?]

Tuesday, 21 August 2012


কবিতার জন্য
মৌসুমী বিলকিস


                  গত চব্বিশ ঘণ্টায় একটা কবিতাও না
                   তীব্র আলোয় অন্ধ করে দেয়নি কোন পংক্তি

                   সারাদিন হন্যে হয়ে কাজ খুঁজে খুঁজে
                   পকেটে পঞ্চাশ টাকা নিয়ে
                    ঘরে ফেরার পরও কানে ফোন গুঁজে
                     আগামি কাজকর্মের খবর নিয়েছি    

                   কবিতা কি প্রেমিকের মতো
                    আদর না পেলে অভিমান করে
                     স্পর্শ না পেলে পাথর ?

                     কিন্তু সোনা,
                     রুজি রোজগার বলেও একটা ব্যাপার আছে
                     খালাসিটোলায় মুখ চুবিয়ে বসে থাকলেই কি লেখা যায়
                     যদিও সেখানে আমার প্রবেশ নিষেধ   
                     ভাবখানা এমন যে ‘তেরে বাপ কী...’ মার্কা
                     দু চারটে শব্দগুচ্ছ ছুঁড়ে দিতে পারি না হাওয়ায়
                                                                                        
আজ থেকে কবিতার ঠোঁটে এক হাজার চুমু খাব রোজ
আজ থেকে সুদৃশ্য পংক্তিগুলোর তীব্র আলোয় অন্ধ হয়ে যাব

Monday, 20 August 2012


মেঘদূত
মৌসুমী বিলকিস

                        জল ভরা মেঘ চিনেছো কি তার বাড়ি
                        দিয়ে এসো তাড়াতাড়ি আমার বিষাদ তাকে
                        সে যেন আমায় ডাকে
                        সে যেন আদরে গুঁড়ো গুঁড়ো করে
                        আমার এ আত্মাকে

                         জল ভরা মেঘ চিনতে পারবে তাকে
                         সেই তুমি যাকে ভিজিয়ে দিয়েছো বাইক-সুদ্ধ
                         তাকে বলে দিও অন্তরে আজ ভীষণ যুদ্ধ
                         তার ভালো হোক তার মায়া চোখ
                         বুকের ভিতরে সাজিয়ে রেখেছি লাফিং বুদ্ধ  

Sunday, 19 August 2012


বাথটব
মৌসুমী বিলকিস


একটা বাথটব শুধু চারপাশে লণ্ডভণ্ড সব
তোর জন্য আয়োজন বসিয়েছি স্নানের উৎসব

পাহাড়ি মেঘের দল বাথটব যায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে
বাথটবে জল আর আমার হৃদয় আছে শুয়ে

তোর সঙ্গে রাত্রিবাস জমেছিল যেটুকু সুগন্ধি
জলেই ঢেলেছি সব বাথটব বোঝে অভিসন্ধি

পাশেই গভীর খাত বাথটব করে টলমল
জলের শরীর ছুঁয়ে আমিও তো হয়েছি চঞ্চল

শরীর মার্জনা এক বুকের স্পর্শ দিয়ে গড়া
তোর জন্য মহাকাল বুকের গভীরে ওঠাপড়া

তুই স্নান চেয়েছিলি আমার দুহাত প্রস্তুত
বাথটবে নেমে আই অপেক্ষায় এই অবধূত

Saturday, 18 August 2012


অগ্নিপাত
মৌসুমী বিলকিস


হাতের মধ্যে অকস্মাৎ
বৃষ্টিপাত
চরাচর জুড়ে ভিজছে রাত
তোমার হাত
হাতের মধ্যে তোমার হাত
জাগছে আঙুল অগ্নিপাত
পবিত্র সেই অগ্নিপাত

আগুন মোড়া রাত্রিদিন
ঘোড়ায় জিন
আগুন সেঁকা সাঁঝ সকাল
ঝরছে কাল
আগুন আমায় নিয়েই চল
আগুন আমায় পুড়িয়ে ফেল
আগুন আমায় বৃষ্টি বল
আগুন আমার, ভিজবি চল 

Friday, 17 August 2012


আঘ্রাণ
মৌসুমী বিলকিস

তুমি নেই
জানলায় কাক এসে বসে
রোজকার মতো সকালের রোদ, ধুলো, ধোঁয়া
উড়ে যায় রূপকথা ছোঁয়া বাতাবি লেবুর ঘ্রাণ
তোমার আঘ্রাণ

তুমি নেই
জ্যোৎস্নায় মহিনের ঘোড়াগুলি চরে
দেরাজের ফাঁকে ঘরে জমা হয় কষ্ট কতদূর
মেদুর পায়রাগুলি লীলাময় ওদের কার্নিশে
ঘাসের শরীর ছেনে গেলাসে গেলাসে পান
দিগন্ত জুড়ে ভাসে  
তোমার আঘ্রাণ 

Thursday, 16 August 2012


ভালোবাসা পেলে
মৌসুমী বিলকিস
                                    

ভালোবাসা পেলে আমি সব লণ্ডভণ্ড করে
সব নতুন করে গড়ে চলে যাব
ভালোবাসা পেলে আমি সিনেমার রিল জুড়ে
পর্দার ফ্রিল জুড়ে শূন্য শূন্য জুড়ে কবিতা সাজাবো
ভালোবাসা পেলে আমি ধারের খাতায় কাটাকুটি করে
ওই মেয়েটির ফ্রক ওই নারীদের শাড়ি ঘর-ছাড়াদের বাড়ি  
রোগা দাদিমার জন্য খিচুড়ি বানাবো
ভালোবাসা পেলে আমি উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে মেঘ হয়ে যাব
তোমাদের ধান খেতে বৃষ্টি নামাবো
ভালোবাসা পেলে আমি স্পর্শে স্পর্শে ডুবে যাব

[ *কৃতজ্ঞতাঃ শক্তি চট্টোপাধ্যায় ] 

Wednesday, 15 August 2012


রূপকথা
মৌসুমী বিলকিস

কাজে ঘুরেফিরে কাজে সারাদিন অচানক্‌
ঝল্‌সে উঠছে ধারালো ফলার চোখ
তোর চোখ
গভীর খাদানে শ্রমিক দেখেছে এক ঝলক্‌
সূর্যালোক সূর্যালোক 

কাজ নেই তাই কাজ খোঁজাখুঁজি, অনিদ্র 
ঠোঁটে সাদা ছোপ ঠোঁটে কালো তিল কী সান্দ্র
তোর ঠোঁট স্বাদু রজনী উতলা বিনিদ্র
কী আর্দ্র, কী আর্দ্র  

এজ অফ হেভেন, পেদ্রো আলমা,সারা দিনমান সত্যজিত
বুকের মধ্যে ছড়িয়ে রেখেছি চু কিত্‌কিত্‌
তোর ও আমার চু কিত্‌কিত্‌  
তুই হাসলেই রূপকথা আর কী সঙ্গীত
কি সঙ্গীত কি সঙ্গীত  

Tuesday, 14 August 2012


অনশন
মৌসুমী বিলকিস


ফিরে আসার কথা বলতে গেলে
বিনয় মজুমদারের চাকা হয়ে যাও তুমি
আস্তিনে গুটিয়ে রেখে আমার বিষাদ
দিব্যি গড়িয়ে যাও চেনা রাস্তায়
একটা নতুন পথ খুঁজে নেওয়া যেত না কি?
যেভাবে আন্দালুসিয়ান ডগ দেখে চম্‌কে
গেলো সিনেমার ইতিহাস
লেডি চ্যাটারলিজ লাভার উস্‌কে দিল উদ্দাম যৌনতা
যেভাবে ম্যাজিক রিয়ালিজম ছেড়ে
বেরিয়ে আসছে লাতিন আমেরিকা
সেনা বাহিনীর বিশেষ বল প্রয়োগ আইন, 
মানে আফস্পা অধ্যুষিত মণিপুর থেকে
মেরি কম যেভাবে তোমাদের নাক ঘষে  দিল
  
নিয়ম কানুন আর পরিবার প্রথা মেনে প্রকৃত শব্দ
আর প্রেম আর জঙ্গলের মহিমা সব কেন অস্বীকার কর  

ফিরে এসো, চল, আমার সঙ্গে, সবার সঙ্গে 

চল রাস্তায় হাঁটি
চল অরণ্যে শুই
চল ব্যারিকেড গড়ি
অহম কাঁদছে চল

তুমি না আসলে আজীবন অনশন
বলেছেন ইরম শর্মিলা চানু