তুমি এবং তুমি
মৌসুমী বিলকিস
‘আয়নায় নিজেকে দেখ’
শব্দবন্ধগুলো
বড্ড সেকেলে, যাকে বলে ক্লিশে
তাহলে বলা যাক, ‘নিজেকে
জানো’
কেমন ধর্মগুরুদের
মতো শোনালো, না?
এক কাজ করা যাক
‘নিজেকে’ একদিকে
আর ‘জানো’ একদিকে সরিয়ে রাখা যাক
তাহলে কী দাঁড়ালো
‘নিজেকে’ দু ভাগ
করে দুটো ‘তুমি’ পাওয়া গেল
একজন আর এক জনের
সঙ্গে তুমুল তর্ক জুড়ে দিয়েছে
আর ‘জানো’
বোঝানোর চেষ্টা করছে,
ভেতরের ‘তুমি’ যা
চাও সেটাই আদি ও অকৃত্রিম
ভেতরের ‘তুমি’
গলা ফাটিয়ে বললো,
আমি আমার মাকে
কামনা করেছিলাম বয়ঃসন্ধিকালে
বাইরের তুমি
ফিসফিস করে বললো,
কক্ষনো না, বাজে
বকছো
ভেতরের তুমি
পাত্তা না দিয়ে বললো,
তারপর মায়ের
প্রিয় বান্ধবীদের
তারপর সমস্ত
প্রিয় মহিলাদের
বাইরের তুমি, চুপ
কর
ভেতরের তুমি, তুই
যা চাস সেটাই আমি
বাইরের তুমি,
অসম্ভব
ভেতরের তুমি, তোর
চাওয়াগুলো স্বপ্নে আপ্লোড করি রোজ
সেই যে গলে যাওয়া
মেয়েটির সঙ্গে রাত কাটিয়ে
তাকে ফেলে রেখে
চলে গেলি বান্ধবীর হাত ধরে
আর বললি কোনদিন
ফিরবি না যদিও
তোর বান্ধবীকে
নিয়ে কোন আপত্তি ছিল না মেয়েটির
সেটাও এই গত রাতে
আপ্লোড করলাম
বাইরের তুমি,
মেয়েটি আমাকে ভালোবাসে কিন্তু
আমি ভালোবাসি
আমার বান্ধবীকে
ভেতরের তুমি, আমি
দুজনকেই কামনা করি
বাইরের তুমি,
জাস্ট শাট আপ্
‘জানো’ তখন একটা
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,
‘নিজেকে জানো’
No comments:
Post a Comment