Total Pageviews

Monday, 8 October 2012


                         মহাবিশ্বের মনখারাপ
মৌসুমী বিলকিস



তুমি খুলে দিলে দ্বার
আমার মন খারাপের অন্ধকার হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে গেল
ট্রাটোস্ফিয়ার ছাড়িয়ে মহাকাশের পথেও
আর শ্রোয়েডিংগারের বিড়াল জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে এঁকে দিল প্রশ্নচিহ্ন

তুমি বললে, যা
আমার যন্ত্রণা মিল্কি ওয়ে-কে করে দিল বিবর্ণ
অবিভাজ্য কণাগুলিও সৃষ্টি করলো বিশাল বিপুল শূণ্যস্থান
ইলেকট্রন প্রোটনগুলিও যাচ্ছেতাই কাণ্ড করে
গুবলেট করে দিল সব রাসায়নিক সংকেত
ফলত আমার সমস্ত শরীর গুলিয়ে উঠলো, ত্বক স্নায়ু রক্ত লসিকা ও মন
ছিটকে যেতে চাইলো দিগ্বিদিক

তুমি বললে, ভালোবাসি না
আমার জানা অজানা সমস্ত তারাগুলো পুড়ে খাক্ হয়ে গেল
আর শুষে নিল মহাবিশ্বের শেষতম আলোর বিন্দুটিকেও
ক্রমশ প্রসারিত হতে থাকা ঘোর কৃষ্ণময়তায়
ঘাপটি মেরে বসে থাকলো আমার মন
পুনরায় কখনো কোন মহা বিস্ফোরণের অপেক্ষায়  


                   
Painting by Michael Marcovici, Big Bang series 

Saturday, 6 October 2012


অসুখ ৩

মৌসুমী বিলকিস      

নখগুলো বাড়তে বাড়তে ছুরির ফলার মতো
শক্ত আর ধারালো হয়ে উঠেছে
আমি হাতড়ে ধরে ফেলছি অন্ধকার
কালো মেখে নিচ্ছি আমার প্রলম্বিত আত্মায়
পৃথিবীর যেখানেই রাত নামছে
 নখগুলো পৌঁছে যাচ্ছে ঠিক
তোমাকে খুঁজছে
পেলেই ছিঁড়ে খুঁড়ে রক্তাক্ত করে
আদর করবে এই নখ
দেখে নেবে তোমার বিশ্বরূপ  



Friday, 5 October 2012



মৌসুমী বিলকিস

অসুখ


ঘোরের মধ্যে শিয়রের কাছে তুই
অসুখ গন্ধ লাগে কেন তোর গায়ে
তোর আলজিভ জিভের মধ্যে ছুঁই
আমার ঠিকানা লিখে রাখি তোর পায়ে
অসুখ অসুখ গন্ধটা তবু পাচ্ছি
তুই পচা মাল অমিও হারিয়ে যাচ্ছি
                                   

অসুখ

অসুখ থেকে অ দিই বাদ
কাছেই দাঁড়িয়ে থাকে সুখ সম্ভব সময়ের সারি
ঠোঁটের মধ্যে ঠোঁট ডুবিয়েও দিতে পারি
চলে এসো এক্ষুণি
এক্ষুণি তোমাকে আমার চাই
তোমাকে না পেলে যাচ্ছেতাই
কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলবো





Saturday, 15 September 2012



কোদানকুলামের আম্মা
মৌসুমী বিলকিস

আম্মা তোর হাতে নেই কোন ঝাণ্ডা
পুলিশ কিন্তু বাগিয়ে ধরেছে ডাণ্ডা
আম্মা তুই সারাদিন মাছ ধরেছিস
রাষ্ট্রের ফেউ শ্বাস প্রশ্বাস ডিসমিস
আম্মা তুই আমার জন্য চিন্তায়
র‍্যাফ ছুটে আসে নিরীহ জেলের প্রাণ যায়
আম্মা তুই প্রতিবেশিদের হাতে হাত
তেজস্ক্রিয়তা কেড়ে নেয় তোর সব রাত
নেতারা করেছে মানুষ মারার চুক্তি
তুই ভেবেছিস সন্তানদের মুক্তি
আম্মা তুই সাগরের জলে দাঁড়িয়ে
আমরাও আছি দিয়েছি দুহাত বাড়িয়ে
আম্মা তুই হয়তো জেলের গারদে
থার্মোমিটার উপ্‌চে উঠছে পারদে
আম্মা তোর বুক ফেটে যায়, যা বিষাদ
তোর জন্যই প্রথম কবিতা মা নিষাদ












Monday, 10 September 2012


ঘোড়া
মৌসুমী বিলকিস

                এই অসহ্য সুন্দর আকাশের কাছে নতজানু
                সব ছেড়েছুঁড়ে স্থানু এই আদিগন্ত কাশফুলে
                দুলে উঠছে আমার অতীত ও ভবিষ্যৎ, বিষাদের দিন  
                ক্ষমাহীন ঘটনা সকল
                 তবুও এখন রূপকথা চলাচল, ডাকে আমাকেই
                 অলৌকিক ঘোড়া এক, খেই হারিয়েছি বোধ
                 প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা
                     
           তবু আজ যা তা করে ফেলতে কাঁপবে না ঠোঁট  
       মনে রেখো, প্রেমিক সকল, প্রিয়তম মোট চৌষট্টি পাখুড়ি 


                               [এক সো পদুমা চৌষঠ্‌ঠী পাখুড়ী।
তহিঁ চড়ি নাচঅ ডোম্বী বাপুড়ী।।
              -কাহ্নপা, চর্যাপদ ]


                                                               



Saturday, 25 August 2012


তোদের জন্য একটা আকাশ
মৌসুমী বিলকিস



চোখ মট্‌কিয়ে দূরে চলে যায় লাটাই চ্যুত ঘুড়ি
ঘর নেই কোন গাছতলা নেই জীবিকাও আহামরি
জীবনে আর স্বপ্নেও আসে কী মহান জোচ্চুরি
তবু, তোদের জন্য একটা আকাশ তৈরি করতে পারি
শোনো, সবার জন্য কবিতা লেখাটা ভীষণ দরকারি

সুখতলা খুঁয়ে হাঁপিয়ে উঠেছে যুবতী জেরবার
বাবার অসুখ মা চলে গেছে মায়ের অলংকার 
পাগলা হাওয়ায় রাতগুলি যায় দিন পাতা ঝরার
কবীর সুমন ভালোবেসেছেন আমাকেও একবার

তাই, তোদের জন্য একটা আকাশ তৈরি করতে পারি
শোনো, সবার জন্য কবিতায় কথা ভীষণ দরকারি







Friday, 24 August 2012


ঘুম 
মৌসুমী বিলকিস

                          
                          দেহের ভিতর শূণ্যতা ধর্ষকাম
                          চুমুর ক্ষত মুগ্ধতা, গিল্‌টি ফিল্‌ অন্য নাম

                          কী নাম তোর? যৌনতা? গাল ফোলায় শঙ্খচিল
                          শঙ্খচিল উড়বি তো? ম্যাপেল গাছ বসন্ত মুগ্ধ নীল
                          রাজকুমার ঘুম ভাঙার কাঠি জিওন    
                          ঘুমের মধ্যে চারিয়ে যান সানি লিওন



Thursday, 23 August 2012


দুটি কবিতা

মৌসুমী বিলকিস



আগুন

সাদা পাতা সাদা তো ঠিক নোস
পাতার মধ্যে ছড়িয়ে রেখেছিস
জীবন আমার চার পয়সার জোস
তীব্র মরণ হৃদয় ঘাতী বিষ
সাদা পাতা আগুন জ্বেলেছিস


ঘাস

আধেক আকাশ পায়ের নীচে ঘাস
তবুও কালো অন্ধ নার্সিসাস্‌
হৃদয় জুড়ে বৃষ্টি বারো মাস
এখনো তুই নদীর কাছে যাস ?
এখনো শেষ হয়নি পরবাস
শরীর আমার জড়িয়ে আছে ঘাস


Wednesday, 22 August 2012


শাফিলিয়া আহমেদ
মৌসুমী বিলকিস

কেন্ট নদী সব জানে
বয়ঃসন্ধি আগুন কথারা দুঃসহ পরিণামে
টুইটারও কিছু জানে
সতেরো বছর কাটিয়েছে মেয়ে প্রহার অপমানে
দিনরাতগুলো জানে
স্বাধীনতা চেয়ে সাহসী মেয়েটি দুস্তর অভিযানে
খয়েরি বাড়িটা গুমরে মরছে ওয়ারিংটন জানে
কিশোরী মেয়ের রক্ত দুহাতে খবরে বিষাদ গানে
কাঁদিস না তুই মেয়ে
একটুও ভুল করিস নি তুই স্বাধীন উপাখ্যানে
ভাবিস না তুই মেয়ে
আল্লাহ্‌ ঠিক ক্ষমা চায়বেন নিহত হতে চেয়ে

তোর চোখ দিয়ে কুরোশাওয়া তাঁর স্বপ্ন দেখেছেন
তোর হাসি দেখে লিওনার্দো মোনালিসা এঁকেছেন
তোর মুখ ধরে শক্তি চট্টো একটি চুমুও খাবেন
তোর প্রতিবাদে এক্স-জেন আর চে গেভারাও যাবেন

কেন্ট নদীটিও স্যালুট করেছে অদম্য তোর জেদ
সবার গভীরে জেগে থাকবেই শাফিলিয়া আহমেদ




[শাফিলিয়া আহমেদ। সতেরোর কিশোরী। নিজের মতো করে, নিজের পায়ে বাঁচতে চেয়েছিল । ওয়ারিংটনে বড় হওয়া মেয়েটি এরকম-ই তো হবে, স্বাধীন এবং সাবলীল। এ তো পাকিস্তান বা ভারত বা আফগানিস্থান নয় যে নিজের গভীরে রক্তাক্ত হতে হতে সারা জীবন কাটিয়ে দেবে এক মেয়ে। কিন্তু খুব ভালোবেসে তার পাশে দাঁড়ানো যাদের উচিত ছিল, তারাই, শাফিলিয়ার মা-বাবা, ‘সংস্কৃতির সম্মান’ রক্ষায় অন্য ছেলে মেয়েদের সামনে তাকে খুন করে ভাসিয়ে দিল রিভার কেন্ট-এর জলে। সেপ্টেম্বর, ২০০৩। এতদিনে, ২০১২ তে, বোন আলিশার সাক্ষ্যে মা-বাবার যাবজ্জীবন। স্থানঃ ইংল্যাণ্ড। আপনারা সবাই এসব কথা জানেন। শাফিলিয়া আর কোনদিন ফিরে আসবে না। টুইটারে লেখা তার দুটো বিষাদের কবিতা হয়তো থেকে যাবে। থেকে যাবে তার মরিয়া হয়ে বেঁচে থাকতে চাওয়ার ‘গল্প’। কিন্তু এই Honour Killing আর কতদিন?]

Tuesday, 21 August 2012


কবিতার জন্য
মৌসুমী বিলকিস


                  গত চব্বিশ ঘণ্টায় একটা কবিতাও না
                   তীব্র আলোয় অন্ধ করে দেয়নি কোন পংক্তি

                   সারাদিন হন্যে হয়ে কাজ খুঁজে খুঁজে
                   পকেটে পঞ্চাশ টাকা নিয়ে
                    ঘরে ফেরার পরও কানে ফোন গুঁজে
                     আগামি কাজকর্মের খবর নিয়েছি    

                   কবিতা কি প্রেমিকের মতো
                    আদর না পেলে অভিমান করে
                     স্পর্শ না পেলে পাথর ?

                     কিন্তু সোনা,
                     রুজি রোজগার বলেও একটা ব্যাপার আছে
                     খালাসিটোলায় মুখ চুবিয়ে বসে থাকলেই কি লেখা যায়
                     যদিও সেখানে আমার প্রবেশ নিষেধ   
                     ভাবখানা এমন যে ‘তেরে বাপ কী...’ মার্কা
                     দু চারটে শব্দগুচ্ছ ছুঁড়ে দিতে পারি না হাওয়ায়
                                                                                        
আজ থেকে কবিতার ঠোঁটে এক হাজার চুমু খাব রোজ
আজ থেকে সুদৃশ্য পংক্তিগুলোর তীব্র আলোয় অন্ধ হয়ে যাব